বৃহস্পতিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ৩:৪৯

৭ মার্চের ভাষণ উপলক্ষে নড়িয়ায় আলোচনা সভা

মার্চ ৯, ২০২৪            

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সমাজ প্রেক্ষাপটে আজও প্রাসঙ্গিক। শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির বিষয় এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের জন্য এখনও এটি প্রাসঙ্গিক।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ উপলক্ষে শুক্রবার ৮ই মার্চ বিকাল ৩টায় নড়িয়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট মাঠে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. খালেদ শওকত আলী।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. খালেদ শওকত আলী বলেন, ‘ভাষণটিতে ১১ শ’র বেশি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ১৮ মিনিটের এই ভাষণের প্রতিটি লাইন বিশ্লেষণ করলে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠন সম্ভব। তলাবিহীন ঝুড়ি আখ্যা দেয়া বাংলাদেশকে মাত্র সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধু জিডিপির দিক থেকে সমৃদ্ধ করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীসহ দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের স্বপ্ন, আশা, বঞ্চনা ও ভবিষ্যতের কথা বলে গেছেন। রেসকোর্স ময়দানে যে আলোড়ন ছিল তার চেয়ে বড় আলোড়ন পড়েছিল ময়দানের বাইরে, পুরো দেশজুড়ে।

‘বর্তমান সরকার এই ভাষণকে পাঠ্যে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পৃথিবী জুড়ে মুক্তিকামী মানুষের জন্য এই ভাষণ এখনও প্রাসঙ্গিক। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ-দর্শনকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ এগুতে পারেনি। অতীতে যখনই এই দর্শনকে বাদ দেয়া হয়েছে, তখনই পিছিয়েছে বাংলাদেশ। দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে সাম্প্রদায়িকতার বিষ নির্মূল করতে হবে।’

শরীয়তপুর জেলা পরিষদের সদস্য আলী আজগর চন্নু বলেন, ‘এই ভাষণ থেকেই স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। স্বাধীনতার পর ছিল- এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। স্বাধীনতার পরই আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তিনি কাজ করেছেন।

‘বর্তমানে একটি সিন্ডিকেট দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে গেছে। জাতির পিতা বলেছিলেন- আমি পেয়েছি চোরের খনি। আজও এই চোরেরা আমাদের পেছনে টেনে ধরছে। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা সমাজের দুর্নীতি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন মুন্সি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ কোটি মানুষের ভাষণে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছাড়া পৃথিবীর কোনো ভাষণ জাতি-রাষ্ট্রের জন্ম দেয়নি। এটি ছিল একমাত্র অলিখিত ভাষণ।

‘এই ভাষণ বাধ্যতামূলকভাবে নবম শ্রেণিতে যুক্ত করতে হবে। এসএসসি পর্যায়ে এ থেকে প্রশ্ন রাখতে হবে। ভালোবেসে শিক্ষার্থীদের এই ভাষণ পড়তে হবে।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য উদয় শওকত আলী বলেন, ‘ভাষণে তিনি বঞ্চনা, ইতিহাস, প্রত্যাশার কথা নিয়ে আসেন। একইসঙ্গে জনমনের কাক্সিক্ষত চাহিদা পূরণে চতুরতা অবলম্বন করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন।’ “একাত্তরের সেই ভাষণ বিভিন্ন দিক থেকেই বিশ্লেষণ করা যায়। তিনি বলেছিলেন- ‘ভাইয়েরা আমার’। এর মধ্য দিয়ে তিনি সব জাতি, ধর্ম ও বর্ণের লোকদের এক করেছিলেন। সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে প্রস্তুত করতে তিনি এই ডাক দিয়েছিলেন। ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’- এর মধ্য দিয়ে তিনি স্বাধীনতা ও মুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। এই মুক্তি অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় উদয় শওকত আলীকে শরীয়তপুর জেলা পরিষদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১নং ওয়ার্ড, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং সংবর্ধনা জনানো হয়।

এছাড়াও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন নড়িয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বি এম মনির হোসেন, ভূমখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন ঢালী, নড়িয়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হোসেন মৃধা, নড়িয়া উপজেলা যুবলীগ নেতা ও আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আলমগীর ফকির, এডভোকেট শাহরিয়ার খান জয়সহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও সেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা।

© Alright Reserved 2021, Hridoye Shariatpur