বৃহস্পতিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ৪:২৩

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নার্সসের বিরুদ্ধে ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

জুলাই ৮, ২০২১            

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের কতিপয় নার্সসের বিরুদ্ধে ক্লিনিকে রোগী ভাগানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে প্রতারিত হচ্ছেন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আসা সহজ সরল রোগীরা। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
অভিযোগের তথ্যটি নিশ্চিত করেন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক মোঃ মুনীর আহম্মেদ খান।

নার্সের রোগী ভাগিয়ে ক্লিনিকে ভর্তি বাণিজ্যের কারণে জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, গত ১ জুলাই রোজ বৃহস্পতিবার রাতে একজন মসজিদের ইমাম তার স্ত্রী মুক্তা বেগমকে প্রসব বেদনা নিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসাপাতালে ভর্তি করে। ভর্তি করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তব্যরত নার্স (সম্ভ্যবত সিনিয়র স্টাফ নার্স স্মৃতি রানী) সে গভীর রাতে তাদের ফুসলিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে আগামীকাল শুক্রবার ডাক্তার আসবে না, বাচ্চা বাঁচাতে হলে রাতের ভিতরে সিজার করাতে হবে। সে নিজে তাদের শরীয়তপুর নাসিং হোমে নিয়ে যায় এবং সেখানে সে নিজে গিয়ে ১১ হাজার টাকা চুক্তি করে সিজার করার ব্যবস্থা করে। এতে তারা সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে দাবি করেন রোগীর স্বামী। তারা মনে করেন যদি সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ করা হতো, তাহলে হয়তো তাহার স্ত্রীর নরমাল ডেলিভারি করা সম্ভব ছিলো। ওই নার্স আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় ক্লিনিকের দালালি করে তাদের সাথে প্রতারণা করে, শরীয়তপুর নার্সিং হোমে নিয়ে আসে।
স্থানীয় ও একাধিক রোগীর সাথে কথা বলে জানাযায়, হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসলে তারা কোন ধরনের চিকিৎসা বা সেবা না দিয়ে ফুসলিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের পছন্দের ক্লিনিকে নিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে একাধিক রোগীকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে শরীয়তপুর নার্সিং হোমে ভর্তি করে সিজার করানো হয়েছে বলে জানান রোগীর স্বজনরা।

অভিযোগকারী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে, এখনকার নার্সরা কোন ধরনের সেবা না দিয়ে। আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে আগামীকাল শুক্রবার ডাক্তার আসবেনা। বাচ্চার অবস্থা ভাল না দ্রুত সিজার না করালে বাচ্চা বাচানো সম্ভব না। পরে ভোর রাতে তিনি আমাদের শরীয়তপুর নার্সিং হোমে নিয়ে যায় এবং এগারো হাজার টাকায় চুক্তির বিনিময়ে আমার স্ত্রীর সিজার করানো হয়।
তিনি আরও জানান, আমি সামান্য বেতনে একটি গ্রামের মসজিদে ইমামতি করি, ক্লিনিকে সিজার করাতে আমি আর্থিক ও মানসিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এ ধরনের প্রতারণ করার কারনে আমি তাদের বিচার দাবি করছি।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক মোঃ মুনীর আহম্মেদ খান জানান, তাদের বিরুদ্ধে আমার কাছে অনেক অভিযোগ এসেছে, লোকমুখে শুনা যাচ্ছে তারা বিভিন্ন ক্লিনিকের সাথে জড়িত আছে। এ পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ আসে নাই। এখন লিখিত অভিযোগ এসেছে। ওই দিন কর্তব্যরত যে নার্স ডিউটিতে ছিলো তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরীয়তপুর জেলার সিভিল সার্জন এস এম আব্দুল্লাহ্ আল মুরাদ জানান, কর্তব্যরত একজন নার্সের বিরুদ্ধে গত সোমবার আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমি এটা তদন্ত করার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়কে দিয়েছি। ঘটনার সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

© Alright Reserved 2021, Hridoye Shariatpur