মঙ্গলবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৪:০০

শরীয়তপুরে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে

জুন ২৬, ২০২৩            

মোঃ জামাল মল্লিক,শরীয়তপুরঃ

শরীয়তপুর সদর ও নড়িয়ায় মালচিং পেপার পদ্ধতিতে সবজি চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকেরা। অধিক লাভজনক হওয়ায় এ পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন অনেক কৃষক।

সদর ও নড়িয়া উপজেলার ঘুরে দেখা যায়, মালচিং পেপার পদ্ধতিতে টমেটো, বেগুন, হাইব্রিড জাম্বু তরমুজ ও বেবি তরমুজ চাষ করা হয়েছে। এ ছাড়াও নড়িয়া উপজেলার শাওড়া গ্রাম, সাতঘড়িয়া কান্দি, জমিরউদ্দিন মাদবর কান্দি, কোব্বাস মাদবর কান্দি, দরবেশ খার কান্দি, শুভগ্রাম, কলোকাঠি, সালধ্, সদর উপজেলার শৌলপাড়ায় বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাওয়ায় এবং উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকেরা দিন দিন মালচিং পেপার পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন।

জানা যায়, জমির মাঝখানে দুই পাশ থেকে কেটে দেড় ফুট চওড়া করে ও ৮-১২ ইঞ্চি পরিমাণ উঁচু করে মাটির সঙ্গে সার মিশিয়ে বেড তৈরি করা হয়। তৈরি বেডগুলো মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। প্লাস্টিকের মালচিং পেপারের কালো রঙের দিকটা থাকে নিচের দিকে আর রুপালি রঙের দিকটা থাকে ওপরের দিকে অর্থাৎ সূর্যের দিকে। এ পদ্ধতি সূর্যের আলো ও তাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে মাটিকে রাখে ফসলের উপযোগী। পরে মালচিং পেপারের দুই পাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে গোল গোল করে কেটে নেওয়া হয়। আর এরপর কেটে নেওয়া জায়গায় রোপণ করা হয় বীজ বা চারা। এরপর তিন ফুট উঁচুতে বাঁশ ও সুতা দিয়ে তৈরি করা হয় মাচা।

পদ্ধতিটি তৈরিতে শুরুতে একসঙ্গে কিছুটা খরচ বেশি হলেও পরবর্তীকালে খরচ খুবই কমে যায়। এ ছাড়া এই পদ্ধতিতে আগাছা হয় না বলে তা পরিষ্কারের কোনো ঝামেলা নেই। দফায় দফায় সার দেওয়ারও ঝামেলাও নেই। আর গাছ দীর্ঘজীবী হওয়ায় উৎপাদন হয় দীর্ঘসময় ধরে। ফলে অতিরিক্ত উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করে আশানুরূপ লাভ পাচ্ছেন কৃষক। মালচিং পেপার পদ্ধতি গ্রহণ করে খুশি উপজেলার কৃষকেরা।

নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি নুসা সূত্রে জানা যায়, জাজিরা , শরীয়তপুর সদর ও নড়িয়া উপজেলায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)এরসহযোগিতায় ও নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি নুসা’র বাস্তবায়নে মালচিং পেপার পদ্ধতিতে ৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে।

নড়িয়া উপজেলার কলোকাঠি গ্রামের ইকবাল সরদার বলেন, আমি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)এরসহযোগিতায় ও নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি নুসা’র বাস্তবায়নে এই প্রথম মালচিং পদ্ধতিতে ২০ শতাংশ জমিতে বেগুন চাষ করেছি। এই পদ্ধতিতে আমার খরচ কম হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। প্রথমে মনে করছিলাম এ পদ্ধতিতে চাষ করলে অনেক টাকা খরচ হয়। পরে দেখলাম এই পদ্ধতিতেই খরচ কম হয়। অনেক বেশি লাভবান হওয়া যায়।

নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি নুসা’র কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাসানুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, ‘মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ নড়িয়া ও শরীয়তপুর সদরে নতুন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে সার পানি কম লাগে, ফসল ভালো পাওয়া যায় এবং লাভমান হয়। আমরা এ পদ্ধতিটি কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করছি।

© Alright Reserved 2021, Hridoye Shariatpur