বৃহস্পতিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ৩:১৯

‘যতদিন একজন ঘরহীন থাকবে ততদিন যুবলীগ আশ্রয় কর্মসূচি চালিয়ে যাবে’

নভেম্বর ১২, ২০২১            

হৃদয়ে শরীয়তপুর ডেক্স :

 

যতদিন বাংলাদেশে একজন গৃহহীন মানুষ থাকবে ততদিন যুবলীগ আশ্রয় কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ এ কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) যুবলীগের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল সাড়ে আটটায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ও সকাল সাড়ে নটায় বনানী কবরস্থানে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণিসহ ১৫ আগস্টে সকল শহিদের কবরে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। সকাল ১১টায় শিল্পকলা একাডেমির ৬নং গ্যালারিতে আলোচনা সভা, ৩য় ধাপে আশ্রয় প্রকল্পের উদ্বোধন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহিদ শেখ ফজলুল হক মণি’র চিত্রকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় বিভিন্ন জেলায় গৃহহীন পরিবারের মাঝে ২২টি ঘর হস্তান্তর করে যুবলীগ। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ঘর দাতা ও গ্রহীতাদের নামের তালিকা ঘোষণা করেন। আশ্রয় প্রকল্পের ঘরের তালিকা ঘোষণার পরে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার গৃহহীনদের গৃহদানের অনুসরণে এই কর্মসূচি। যুবলীগের আগে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন এরকম যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়নি। আমি একটু খবর নেওয়ার চেষ্টা করেছি কোথাও দেখিনি কোনো সংগঠন এভাবে গৃহহীন মানুষের জন্য ঘর তৈরি করে দিয়েছে। সংগঠনের তরফ থেকে এই প্রথম বাংলাদেশে যুবলীগ এ যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। অনেকে মনে করছেন এটা জাতীয় উন্নয়নে, এমনকি এসডিজি উন্নয়নেও প্রভাব ফেলবে। এটি মানুষের জীবন মান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন-বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, আওয়ামী যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান আমির হোসেন আমু। প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, আওয়ামী যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল করিম সেলিম। সভাপতিত্ব করেন-যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সঞ্চালনা করেনযুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা।

উদ্বোধকের আমির হোসেন আমু বলেন, যুবলীগ সম্পর্কে কথা বলতে গেলে আগে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে বলতে হবে। মণি ভাইয়ের সঙ্গে আমার আমৃত্যু সম্পর্ক ছিল এটা সবারই জানা। তিনি ১৯৬০ সালে বিএম কলেজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ-তে ভর্তি হন। তখন আইয়ুব খানের মার্শাল ‘ল’-এর কারণে রাজনৈতিক সংগঠন ব্যান ছিল। তখন তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের। সেই সময়ে ঝুকি নিয়ে তিনি ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করেছিলেন। আমার সুযোগ হয়েছিল তার সঙ্গে খুলনা, যশোর ও ফরিদপুরে যাওয়ার। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা বাস্তবায়নে শেখ মণি’র নেতৃত্বে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে একত্রিত করে দাবিকে আরও বেগবান করেছিলেন। এই ছয় দফা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন জীবন দিয়েছেন। যার কারণে ছয় দফা দাবি ও যৌক্তিকতা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সঙ্গে তাকেও হত্যা করেছিল খুনিরা। কারণ তারা শেখ মণিকে জানত, তার নেতৃত্ব গুণকে জানত। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে এদেশের সমস্ত আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা করার সক্ষমতা তার ছিল। আর একারণেই তাকেই সর্বপ্রথম খুনিরা হত্যা করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ সেলিম বলেন, ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই মুজিব বাহিনীর অন্যতম সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ শেখ ফজলুল হক মণি যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। যুবলীগ গঠন করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু মণি ভাইকে বলেছিলেন “মণি এই বাংলাদেশে আমার ডাকে যে সমস্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা যুবক জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল তারাই পারবে আমার যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে এবং তাদের নিয়ে তুমি একটি যুব সংগঠন করো। বঙ্গবন্ধু মণি ভাইকে বলেছিলেন-যুবলীগ হবে আমার দেশে গড়ার প্রধান কারিগর। তারাই পারবে আমার সোনার বাংলা গড়তে। আর সোনার বাংলা গড়তে হলে আমার সোনার ছেলে দরকার। যুবলীগকে বঙ্গবন্ধু সোনার ছেলে হিসেবে সম্বর্ধনা করেছেন। কারণ যুবলীগ যখন গঠন হয় তাদের ছাত্রলীগ থেকে নেওয়া হয়। এই ছাত্রলীগ শুধু বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেনি, স্বাধীনতার পূর্বে দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে বঙ্গবন্ধুর কর্মসূচিগুলো ছাত্রলীগের মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন। এই ছাত্রলীগ দিয়েই মণি ভাই যুবলীগ গঠন করেছিলেন এবং ৩ বছরের মধ্যে তার নেতৃত্ব আর গুণাবলী দিয়ে বাংলাদেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী যুব সংগঠন গড়ে তুলছিলেন।

© Alright Reserved 2021, Hridoye Shariatpur