সোমবার ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ৯:২৮

মোবারক এখন সফল ব্যবসায়ী

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২            
মোবারক এখন সফল ব্যবসায়ী

গ্রাম্য বাজার গ্রীষ্মের দুপুর প্রচন্ড তাপদাহ। বাজারের মাঝমাঝি একটি দোকান। অন্যান্য দোকানে লোকজনের ভীড় না থাকলেও এ দোকানে কয়েক জন লোক দেখা গেল। সেদিকে এগিয়ে দেখা গেল মোক্তার ইলেকট্রিক্যাল নামে একটি দোকান। সেখানে পানজাবী গায়ে খরিদ্দারদের সাথে কথা বলছে ও তাদের চাহিদা মোতাবেক ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রী বিক্রয় করছে বিশ বছরের এক তরুণ। আলাপ করে জানা গেল তার নাম মোবারক। দুই বছর আগেও তাদেও দোকানের এ রকম অবস্থা ছিল না।

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়া গ্রামের হাসান আলী প্রধানিয়া ও আছিয়া বেগম এর ছেলে মোবারক হোসেন। আট ভাই বোনের মধ্যে মোবারক সবার ছোট। পড়ালেখায় সে বেশি মনোযোগি ছিল না অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে মোবারক। ২০১৭ সালে সে বেকার ছিল। পরিবারের কাছে সে বোঝা হিসাবে পরিনিত ছিল। সামাজিক ও স্থানীয় কাজে কোন অংশগ্রহণ ছিল না। বড় ভাইকে কাজে সামান্য সহযোগিতা করত।

বছর চারেক আগে ইলেকট্রিক্যাল ব্যবসা শুরু করেন মেবারকের বড় ভাই মোক্তার হোসেন। সে দোকেনে মোবারককে কাজে লাগায় তার ভাই। কাজ না জানা মোবারক কোন রকমে তার ভাই মোক্তারকে সহায়তা করতে থাকে। ব্যবসায় তেমন সফলতা আসতে ছিল না। একদিন তার বড় ভাই নুসার তারাবুনিয়া শাখার মাঠকর্মী মাসুদ রানার মাধ্যমে জানতে পারেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন এর আর্থিক সহযোগিতায়, নুসা মাল্টি ডাইমেনশলাল প্রশিক্ষণ সেন্টারের মাধ্যমে Skills for Employment Investment Program (SEIP) প্রকল্পের আওতায় বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের বিনা খরচে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য সে নুসা তারাবুনিয়া শাখায় যোগাযোগ করে। সেখান থেকে বিস্তারিত জেনে বেকার জীবনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে মোবারক হোসেন ছয় মাস মেয়াদি ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ওয়ার্ক প্রশিক্ষণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। নুসা মাল্টি ডাইমেনশলাল প্রশিক্ষণ সেন্টার এর ছয় মাস মেয়াদি ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ওয়ার্ক প্রশিক্ষণ এর প্রথম ব্যাচে ভর্তি হয়ে কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলতার সাথে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সমাপ্ত করে। প্রশিক্ষণকালীন সময়ে কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবসা সংক্রান্ত আলোচনায় সে তাদের ব্যবসার দুর্বলদিকসমূহ চিহ্নিত করে সঠিক ভাবে ব্যবসা পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। প্রশিক্ষণ হতে মোবারক ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিং, ফ্যান-মটর মোরামত, সোলার সিস্টেমস ইনস্টল ও মেরামত ইত্যাদি কাজ দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ী ফিরে গিয়ে নুসা থেকে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা ঋণ গ্রহণ করে পুরোদমে ব্যবসা শুরু করে।

ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি ও সোলারের পাশাপাশি সে কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম ও এডোবি ফটোশপের কাজ শিখেছে। সে তার দোকানে একটি ল্যাপটপ ও প্রিন্টার (ফটোকপি, স্ক্যান ও প্রিন্ট) ও একটি ডিজিটাল ক্যামেরা তার ব্যবসায় সংযোগ করেছে। তারা দুই ভাইছঢ়াড়াও অতিরিক্ত একজন লোক নিয়োগ করেছে। সে তাদের ব্যবসায় সহযোগিতার পাশাপাশি ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিং ও সোলার সিস্টেমস মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে থাকে। এখন তার ব্যবসা থেকে মাসে ১৫,০০০-২০,০০০ টাকা নিয়মিত ভাবে আয় হয়ে থাকে। এই দোকানের আয় দিয়েই তাদের পরিবারের যাবতীয় খরচ বহন করা হয়। ইতিমধ্যে মেবারক ১,৩৭,০০০/- (এক লক্ষ সাইত্রিশ হাজার) টাকা খরচ করে তাদের বাড়ীর ঘর মেরামত করেছে। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে তাদের ব্যবসা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রশিক্ষণ গ্রহণের পূর্বে তার দোকানে ৫০,০০০/- টাকার মালামাল ছিল। এখন তার দোকানে প্রায় ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকার মালামাল রয়েছে। মোবারকের ইচ্ছা সে তার ব্যবসাকে আরো সম্প্রসারিত করবে। সে সমাজে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে আগামী দশ বছর পরে সে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচন করে সমাজ সেবার কাজে অংশ নেবে। সে বিশ্বাস করে নুসার দক্ষতাবৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণই তাদের ঝিমিয়ে পড়া ব্যবসাটার প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছে। এই জন্য মোবারক নুসা ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায়।

© Alright Reserved 2021, Hridoye Shariatpur