বৃহস্পতিবার ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ সকাল ৬:২০

বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল শওকত আলীর ৮৭তম জন্মবার্ষিকী পালিত

জানুয়ারি ২৮, ২০২৪            

২৭ জানুয়ারি শনিবার সকাল ৯টায় নড়িয়া স্বাধীনতা ভবনে জাতীয় বীর কর্ণেল শওকত আলীর সমাধিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এরপর সকাল ১০টায় নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি (নুসা)’র উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় বীর কর্ণেল শওকত আলীর সহধর্মিণী মাজেদা শওকত আলী, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা খালেদ শওকত আলী, নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য আলী আজগর চুন্নু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন মুন্সি, নড়িয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বি এম মনির হোসেন, আব্দুর রহমান ঢালী, ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সদস্য হৃদয় শওকত আলী, নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি নুসার চেয়ারম্যান এ্যাড. ফিরোজ আহমেদ, যুগ্ম পরিচালক জয়দেবচন্দ্র কুন্ডূ, উপ-পরিচালক উদয় শওকত আলী, কবির হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন মাল, সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন ছৈয়ালসহ প্রমুখ।

কর্ণেল শওকত আলী ১৯৩৭ সালের ২৭ জানুয়ারি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার লোনসিং বাহের দীঘিপার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা নাম মুন্সী মোবারক আলী ও মায়ের নাম মালেকা বেগম। কর্ণেল শওকত আলী ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত হন ও ১৯৭৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ লাভ করেন। কর্ণেল শওকত আলী ২৪ জানুয়ারি ১৯৫৯ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অর্ডন্যান্স কোর এ কমিশন লাভ করেন। তাঁকে অকাল পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে ১৯৬৯ সালে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তিনি ১৯৭১ সালে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে কর্ণেল শওকত আলী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের শত্রুদের দ্বারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর কর্ণেল শওকত আলীকে দ্বিতীয়বার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে পুনরায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। কর্ণেল শওকত আলী ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ফরিদপুর-১৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের হুইপ নির্বাচিত হন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম, ২০০১ সালের অষ্টম, ২০০৮ সালের নবম ও ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শরীয়তপুর-২ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

© Alright Reserved 2021, Hridoye Shariatpur