বৃহস্পতিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ৩:১৮

ডাক্তার অনুপস্থিতি, অব্যাস্থাপনায় জরজীর্ন জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স

ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৩            

শাওন বেপারি, স্টাফ রিপোর্টারঃ

শরীয়তপুরের, জাজিরা উপজেলা হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসক ডাঃ শায়লা নাজনীন ও এ্যনেস্থেসিয়া  ডাঃ সালাউদ্দিনের অনুপস্থিতির কারনে এক বছর ধরে বন্ধ হয়ে গেছে মাতৃসেবা ও গাইনি চিকিৎসা এবং সিজারিয়ান সেবা কার্যক্রম। নেই এক্সরে ও রোগ নির্নয়ের মেশিন অপারেটর।ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়েও চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন না অনেকেই। সেবা না নিয়ে অনেকেই ফিরে যেতে দেখা গেছে। এতে চরম অসন্তোষ্ট দেখা দিয়েছে হাসপাতালে আসা সেবা বঞ্চিতদের মধ্যে।

তাদের মতে, নতুন ডাঃ এখানে আসুক। এবং যারা এখানে সেবা দানে অনুপস্থীত তাদের প্রতি দৃস্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যাবস্থা করা হোক।কেনো তারা উপস্থিত না হয়ে বেতন নিবে,আর কেনোইবা আমরা সেবা থেকে বঞ্চিত হবো?

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ পাঁচ বছর পরে,ডঃ মাহামুদুল হাসান ও রোমান বাদশার প্রচেষ্টায় ২১-আগস্ট ২০২২, সিজারিয়ান মায়েদের জন্য ওটি সেকশন চালু করা হয়েছেছিলো। উক্ত অপারেশনের সার্জন দলে ছিলেন, ডা. শায়লা নাজনীন, ডা. তাসীন ইশরাক ও ডা. রাবেয়া খান এবং এনেস্থিসিয়া দলে ছিলেন, ডা. সালাউদ্দিন ও আর,এম,ও ডা. রোমান বাদশা। খুব আশা নিয়ে জাজিরা উপজেলার হতদরিদ্র  মানুষ ভেবে ছিলো, আর যেতে হবে না শরীয়তপুর বা ঢাকায়।তাদের বিক্রি করতে হবে না কোন সম্বল। জাজিরা  সাধারন ৫০ শয্যা ও ট্রমা সেন্টারে ১৪ শয্যা মিলিয়ে ৬৪ শয্যা বিশিষ্ট  আধুনিক হাসপাতাল। হাসপাতালটি আধুনিক হলেও ডাক্তার নেই তেমন,উপজেলার ইউনিয়ন স্যাটেলাইট ক্লিনিকে নিয়োগ প্রাপ্ত ডাক্তারগনকে সার্বক্ষনিক এখানে রেখেও রোগির সেবা দান করা সম্ভব হচ্ছে না।

অপর দিকে ইউনিয়ন সেবা হচ্ছে বন্ধ। আর দেড় বছরে ডাঃ শায়লা নাজনিন করেছে ৩টি সিজার উপস্থিত হয়েছেন নাকি সব মিলিয়ে এক মাস। আর এনেস্থেসিয়ার ডাঃ সালাউদ্দিন ও তাই এমনটাই অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রতি মাসে গড়ে ১৫০- ২০০ সিজারিয়ান সেবা গ্রহিতা আসেন জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে,যাদের মধ্যে ১০টা স্বাভাবিক ডেলিভারি হয় এখানে আর ৪০ টি হয়, পাশে নিম্ন মানের পদ্মা ক্লিনিকে আর বাকিরা গিয়ে ভর্তি হন প্রাইভেট ক্লিনক গুলোতে, হয় শরীয়তপুরে নয়তো ঢাকায়।যেখানে যাতায়তের পথে আছে ভোগান্তি ও দূর্ভোগ।তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেবা গ্রহিতাদের দাবি, যেহেতু সে মা তাই তিনি বুঝবেন এর ব্যাথা।সঠিক ব্যাবস্থ্যা কেবল তিনিই নিতে পারবেন। এই অনিয়মের মূল কারণ জাজিরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু স্টাফগণ ক্লিনিকের ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন।

এ ব্যাপারে দায়িত্বরত জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহামুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,আমি দুবার তাদেরকে নোটিশ করেছি,লোকবল নিয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছি,খুব শিঘ্রই এর সমাধান হয়ে যাবে। তবে এ্যানেস্থেসিয়া ডাঃ কেবল সিজার বা অপারেশনের কাজে লাগে, তিনি সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখেন।

© Alright Reserved 2021, Hridoye Shariatpur