সোমবার ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ৯:৩৭

জাজিরায় শিক্ষক দ্বাড়া শিশুর শ্লীতাহানি,৩ লাখ টাকায় রফাদফা

এপ্রিল ১৬, ২০২২            

জাজিরা প্রতিনিধি:

শরীয়তপুর জাজিরা উপজেলার আঃ মান্নান মল্লিক কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সোহেল রানা কতৃক ঐ স্কুরের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী (১১) শিশু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ মার্চ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এ ঘটনা ঘটে ।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ বিকেল সাড়ে পাঁচটার সময় কুন্ডের চর ইউনিয়নের আব্দুল মান্নান মল্লিক কান্দি এলাকায়, সোহেল রানা যে বাসায় থাকে সেখানে  প্রাইভেট পড়তে আসে শিশুটি। পরতে এসে সেখানে শিশুটি তার শিক্ষক সোহেল রানা কতৃক  যৌন নির্যাতনের শিকার হন। শিশুটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাছে বিষয়টি খুলে বললে, তার নানা তাতক্ষনিক গিয়ে শিক্ষকে আটক করে এবং মারধোর করে।

 

বিষটি শিক্ষক নেতারা সহ স্থানীয় প্রভাবসালী মিমাংসার নামে কয়েক দফা নাটক করে। অবশেষে  গোপান বৈঠকের মাধ্যমে হযরত আলি মৃধা, কবিরাজ কান্দি গ্রামে, তিন লক্ষ টাকা জরিমানা করে মিমাংসা করে দেয়। জরিমানার টাকা, ইউনুস শেখ শিক্ষকের বাবার নামের ইসলামি ব্যাংক নড়িয়া শাখা একটি চেক প্রদান করেন ধর্ষিতা শিশুর এলাকার শালিশ বা ছাত্রির এলাকার গার্জিয়ান পক্ষ রফিক আকনের একাউন্টে। সে টাকার কিছু অংশ সালিসদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয় ও কিছু ছাত্রির নানা, ও বাবা মাকে প্রদান করা হয়,এমনি তথ্য পাওয়া গেছে।

 

বিষয়টির সত্যতা সর্ম্পকে জানতে চাইলে শিশুটির বাবা, মা এবং নানা জানান, বিচারকরা দশ দিনের সময় নিয়েছেন মিমাংসা করে দেয়ার জন্য। কি মিমাংশা করবে, কেন মিমাংশা করা হবে, কি ঘটে ছিলো? এসব প্রশ্নের কোন উত্তরই দেননি পরিবারের কোন লোক। এ ছাড়া অনেক প্রশ্ন জানতে চাইলে পরিবারের লোকজন কোন কথার উত্তরই দেননি। শিশুটির সাথে কথা বলতে চাইলে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে দেয়নি। এমনকি শিশুটি বাসায় থাকতেও, সে বাসায় নেই বলে জানানো হয়।

 

অভিযুক্ত শিক্ষক সোহেল যে বাসায় থাকতেন, সেই বাসার বাড়িওয়ালি বলেন,আমার ছেলে ও ঐ মেয়ে একসাথেই পড়তো,তবে আমি তেমন কিছু দেখিনি। তবে ঐ দিন আমার ছেলেকে শিক্ষক মেরেছিলো। ওদের পড়া শেষ হওয়ার পর,মেয়ের নানা ও আরো লোকজন আমার বাসায় এসে শিক্ষকের গায়ে হাত তোলে ও আমার গায়েও হাত তোলে, তখন আমি শুনেছি তাদের এই অভিযোগ,কিন্তু আমি দেখি নাই।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, একটি প্রভাবসালি মহলের চাপের মুখে শিশুটির পরিবার মুখ খোলতে সাহস পাচ্ছে না। বিচার বর্হিভুত এমন জরিমানার মাধ্যমে ধর্ষণের মতো ঘটনা ধামাচাপার বিষয়টি এলাকায় রীতিমতো চাঁপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে শিক্ষকের উপযুক্ত বিচার দাবিও করেন অনেক  এলাকাবাসী। আবার অনেকে ছাত্রির নানার সাজানো নাটকো মনে করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক সোহেল রানার কাছে মুঠো ফোনে বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে, তিনি জানান ঘটনাটা মিথ্যা, তার বিরুদ্ধে সড়যন্ত্র করা হচ্ছে।  তাহলে কেন বিচার হয়েছে? তিন লক্ষ টাকা কেন জরিমানা দেয়া হলো এবং আপনার নামে যে ধর্ষণের অপবাদ দেয়া হলো সে বিষয়ে আইনি কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা? এমন প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে,জাজিরা এসে দেখা করবেন বলে ফোন কেটে দেয়। পরে জাজিরা এসে তাকে ফোন দিলে, সে ফোন বন্ধ করে দেয়।তার বাসায় খোজা হলে, তার স্ত্রী বলে সে বাসায় নেই। পরে আবার তার ফোনে ফোন করা হলে তার স্ত্রী বলে তিনি বাসায় নেই, এ  বলে তিনি ফোন কেটে দিয়ে মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেন।

জাজিরা থানার উপ-পরিদশক (তদন্ত) ফারুক আহমেদ জানান, শিক্ষক দ্বাড়া শিশু ধর্ষনের এমন কোন ঘটনা আমার জানা নেই। আমি এমন কোন ঘটনার অভিযোগ পাইনি। কোন অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষা অফিসার মোঃ সোবাহান মুন্সি এর কাছে মুঠোফোনে বিসয়টি জানতে চাইলে, তিনি বলেন অভিযুক্ত শিক্ষক তার কাছে এসেছিলেন এবং বলেছেন ঘটনাটা তার বিরুদ্ধে সরযন্ত্রমুলক,স্থানিয় ভাবে বিসয়টি দেখা হচ্ছে।

 

© Alright Reserved 2021, Hridoye Shariatpur