সোমবার ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ৯:০৮

জাজিরায় নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ শিক্ষক দম্পতির ছেলে

সেপ্টেম্বর ৩, ২০২২            

হৃদয়ে শরীয়তপুর ডেস্কঃ

শরীয়তপুরের জাজিরায় নদীতে গোসল করতে গিয়ে শিক্ষক দম্পতির একমাত্র ছেলে পানিতে ডুবে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ ছেলেটির নাম মুরছালিন(১৩)। সে জাজিরা শামসুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

সরেজমিনে জানা যায়, নিখোঁজ মুরছালিন জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের আইসিটি শিক্ষক মাষ্টার মজিবুর রহমান ও জাজিরা শামসুল উলুম কামিল মাদ্রাসার আইসিটি শিক্ষক হাফসা আক্তারের একমাত্র ছেলে। তারা জাজিরার জয়ননগর ইউপির খোরাতলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও জাজিরা পৌরসভার আক্কেল মাহমুদ মুন্সি কান্দির শাহী মসজিদ এলাকায় গিয়াসউদ্দিন মাদবরের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

শুক্রবার (২-সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার সময় তার সহপাঠী শিক্ষার্থী আফনান(১৩)সহ কয়েকজন বন্ধুর সাথে জাজিরার শফিক কাজির মোড় থেকে কাজীরহাটমুখি কীর্তিনাশা নদির লঞ্চঘাট এলাকায় গোসল করতে যায়। এসময় নদীর পাড়ে থাকা একটি বাল্কহেড থেকে তারা নদীতে লাফাচ্ছিলো এবং গোসল করছিলো। এছাড়া তারা কয়েকবার নদীর তীব্র স্রোতকে উপেক্ষা করে নদী পারও হয়েছে। এভাবে একাধিকবার নদী পার হওয়ার পর হঠাৎ মুরছালিন ডুবে যায়।

মুরছালীনের সহপাঠী আফনান জানায়, আমরা বাল্কহেড থেকে লাফিয়ে নদী পার হয়ে যাই। কিন্তু মুরছালিন আমাদের সাথে বাল্কহেড থেকে লাফ দিয়ে ডুব দিলে আর ওঠেনি। আমরা নদী পার হয়ে বিষয়টি খেয়াল করে ভয় পেয়ে যাই। এরপর কিছুক্ষণ খোজাখুজি করে ওর পরিবারকে বিষয়টি জানাই।

নিখোঁজ মুরছালিনের বাবা মাষ্টার মজিবুর রহমান আর্তনাদ করে বলেন, আমার ছেলে গোসল করার কথা বলে আসছিলো। কিভাবে কি হয়ে গেলো কিছুই বুঝতে পারলামনা। আমার ছেলেটা ডুবে কোথায় চলে গেলো আল্লাহই ভালো জানে।

এদিকে ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন জড় হয়ে যায় নদীর আশপাশে। স্থানীয়রা নদীতে অনেক খোজাখুজি করলেও নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ভালোভাবে খুজে দেখা সম্ভব হয়নি, যার ফলে নিখোঁজ মুরছালিনের কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে খবর পেয়ে জাজিরা ফায়ার স্টেশন থেকে উদ্ধারকর্মীরা আসলেও তাদের ডুবুরিদল না থাকায় অনুসন্ধানে নামতে পারেনি তারা। যার ফলে তারা উদ্ধারকাজে আসার জন্য সিয়নিয়রদের মাধ্যমে অভিজ্ঞ ডুবুরিদলকে জানায়।

জাজিরা থানার স্টেশন মাষ্টার এনামুল হক সুমন জানান, আমরা খবর পেয়ে সাথে সাথে সেখানে গিয়েছি।নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় এবং আমাদের ডুবুরিদল না থাকায় আমরা অনুসন্ধান চালাতে পারিনি। অভিজ্ঞ ডুবুরিদলকে খবর দেয়া হয়েছে, তারা এসে নদীতে অনুসন্ধান চালাবে।

© Alright Reserved 2021, Hridoye Shariatpur