মঙ্গলবার ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ১০:২৬

ছয় দফার সমর্থনে ১১ দফা দাবি উপস্থাপন (১৯৬৯)

জানুয়ারি ২৯, ২০২৪            

এগারো দফা পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যকার বৈষম্যের পটভূমিতে একদিকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির বাস্তবায়ন এবং অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের বড় ধরনের প্রয়াস। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ছয় দফা আন্দোলনের সূচনা হলেও বঙ্গবন্ধুসহ গণহারে আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেপ্তার, ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের এবং আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর নির্যাতনের ফলে ছয় দফা কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্তিমিত হয়ে পড়ে। ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের মেনন ও মতিয়া গ্রপ রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলে। এ দুই সংগঠন ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে এবং আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে ১১ দফা দাবি ঘোষণা করে। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয় দফা দাবির ব্যাপক প্রতিফলন ঘটে। এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত হয়। এগারো দফা কর্মসূচিতে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে প্রত্যক্ষ নির্বাচন ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন, পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, ব্যাংক, বীমা, বৃহৎ শিল্পের জাতীয়করণ, কৃষকের খাজনা ও করের হার হ্রাস, সব রাজবন্দির মুক্তি ও রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবির পক্ষে ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে। ফলে এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণসমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব কার্যত চলে আসে ছাত্রনেতাদের হাতে। যা গণআন্দোলনে রূপ নেয়। মুক্তিযুদ্ধের পটভ‚মি রচনায় ছাত্র সমাজের এগারো দফা আন্দোলন প্রত্যক্ষ অবদান রাখে।

© Alright Reserved 2021, Hridoye Shariatpur