বৃহস্পতিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রাত ৪:০৬

ঈদকে টার্গেট করে বিপুল অঙ্কের জাল নোট সরবরাহের প্রস্তুতি, র‌্যাবের জালে ধরা

মার্চ ৩০, ২০২৪            

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানাধীন চরমোহন এলাকা হতে জাল টাকা প্রস্তুতকারী চক্রের মূলহোতা আরিফ ব্যাপারীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার এবং জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদিসহ বিপুল অঙ্কের জাল নোট উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৩।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানাধীন ঘড়িসার ইউনিয়নের চরমোহন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জালনোট তৈরি ও ব্যবসায়ী চক্রের মূলহোতা চরমোহন এলাকার রতন ব্যাপারীর সন্তান মো. আরিফ ব্যাপারী (২০), আলী আহমেদের সন্তান মো. জাহিদ এবং হানিফ গাজীর সন্তান অনিককে (১৯) গ্রেফতার করে র‍্যাব-৩।

র‍্যাব-৩ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের হেফাজত হতে ২০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যমানের জালনোট যার মধ্যে ৫০০ টাকার জাল নোট ৯২টি এবং ১০০০ টাকার জাল নোট ২০০০টি ছাড়াও প্রিন্ট করা ৫০০ টাকার বিপুল অঙ্কের নোট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া জালটাকা তৈরিতে ব্যবহৃত ১টি কালার প্রিন্টার, ১টি ল্যাপটপ, ১টি মাউস, ১টি ল্যাপটপ চার্জার, ২টি প্রিন্টারের ক্যাবল, ১টি মাল্টিপ্লাগ, ১টি স্টীলের স্কেল, ১টি এন্টিকাটার, ১টি স্ক্রিন প্রিন্টের ফ্রেম, ১টি টাকা কাটার কাচ এবং ২টি মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়।

মো. শামীম হোসেন জানান, গ্রেফতার আরিফ ব্যাপারী এই জাল নোট ছাপানো চক্রের মূলহোতা। আরিফ আগে থেকেই কম্পিউটারে পারদর্শী ছিলেন। তিনি ঘড়িসার ইউনিয়নের বাংলা বাজারে একটি কম্পিউটার দোকানে কাজ করতেন। তিনি ইউটিউব থেকে জালটাকা বানানোর প্রক্রিয়া দেখে এবং নিজের অর্জিত কম্পিউটার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে জাল নোট তৈরিতে পারদর্শিতা অর্জন করেন।

তিনি জানান, পরে আরিফ তার অপর দুই সহযোগী জাহিদ এবং অনিকের সহযোগিতায় কম্পিউটার, প্রিন্টার এবং জালটাকা তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করে নিজের ঘরে জালটাকা ছাপানোর কাজ শুরু করেন। আরিফ, জাহিদ ও অনিক বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া ও অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে জাল টাকা বিক্রয়ের জন্য নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। তারা এসব পেজ প্রমোট ও বুস্টিং করে অনেক পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা সংগ্রহ করেন।

এ চক্রটি বছরব্যাপী জাল নোট প্রস্তুত ও বিক্রয় করে আসলেও আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে টার্গেট করে বিপুল অঙ্কের জাল নোট বাজারে সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তারা প্রতি ১ লাখ টাকা মূল্যমানের জাল নোট ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন। ঈদ উপলক্ষে জাল নোটের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তারা প্রতি ১ লাখ টাকার জাল নোট ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন।

র‌্যাব জানায়, আরিফ ব্যাপারী জিজ্ঞাসাবাদে জানান, শরিয়তপুর জেলার অধিকাংশ লোকই ইতালি প্রবাসী এবং দেশে অবস্থানরত বড় একটি অংশ রাজধানীর বাংলা বাজারের বিভিন্ন প্রিন্টিং প্রেসে কর্মরত। পরিচিতদের সূত্র ধরে তিনি বিভিন্ন সময় রাজধানীর বাংলা বাজারে এসে অবস্থান করে প্রিন্টিং সম্পর্কে সম্যক ধারনা লাভ করেন। সেই ধারণা থেকেই জাল টাকা তৈরীর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেমন রং, কালি ও কাগজ পুরান ঢাকা হতে ক্রয় করতেন।

র‌্যাব আরও জানায়, এসব জালনোট বিক্রয়ের জন্য আরিফ, জাহিদ এবং অনিক মিলে ফেসবুকে জালটাকা বিক্রয়ের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপের (যেমন: এ গ্রেড জালনোট, টাকা চাই, জালনোট, জালটাকা বিক্রি করি, জাল টাকার ডিলার, জাল টাকা বিক্রয় কেন্দ্র, রিয়েল সেলস্, টাকা বিজনেস ইত্যাদি) পোস্টে জালটাকা ক্রয়ে আগ্রহী কমেন্টকারীদের সাথে ভুয়া আইডি খুলে ইনবক্সে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে তারা হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার, ইমো প্রভৃতি অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে জালটাকা ডেলিভারির কাজ করে থাকেন। এ চক্রটি বিগত সময়ে জাল টাকার বড় ধরনের একাধিক চালান ডেলিভারি দিয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। চক্রটি রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর ও ফরিদপুর এলাকায় জালনোট সরবরাহ করত বলে স্বীকার করে। ১৮ মার্চ দুপুরে ৫ লাখ টাকার জালনোট ডেলিভারির জন্য প্রস্তুতির সময় টাকা, মেশিন ও সরঞ্জামাদিসহ র‍্যাবের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে।

© Alright Reserved 2021, Hridoye Shariatpur